
বিগত সময়ে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে অবহেলা ও ভ্যাকসিন সংগ্রহে ব্যর্থতার কারণেই দেশে হামের পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার (১১ মে) সকালে বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে সরকার দ্রুত ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে এবং আক্রান্ত শিশুদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে অন্তত চার সপ্তাহ সময় লাগবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতি চার বছর পরপর হাম-রুবেলা টিকা সংগ্রহ ও ক্যাম্পেইন পরিচালনার কথা থাকলেও ২০২০ সালের পর সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়নি। বিগত সরকারগুলো সময়মতো টিকা সংগ্রহ করেনি এবং প্রচারণাও চালায়নি। ফলে শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার বাইরে থেকে গেছে। এ কারণেই বর্তমানে হাম পরিস্থিতি তীব্র আকার ধারণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার জরুরি ভিত্তিতে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করেছে। এত অল্প সময়ে টিকা সংগ্রহ করার নজির পৃথিবীর ইতিহাসে খুব কম রয়েছে। এখন টিকাদান কার্যক্রম চলছে এবং রোগীর সংখ্যাও কিছুটা কমতে শুরু করেছে।
মন্ত্রী জানান, টিকা দেওয়ার পর শিশুদের শরীরে অ্যান্টিবডি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে অন্তত চার সপ্তাহ সময় লাগে। পাশাপাশি শিশুদের অপুষ্টিও হামের সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিগত সরকারের সময় হাম টিকার ভ্যাকসিন সংগ্রহ না করার বিষয়ে তদন্ত হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন আমাদের মূল লক্ষ্য শিশুদের বাঁচানো এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা। তদন্ত পরে হলেও করা যাবে।”
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। এ সময় টিকিট কাউন্টারে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক কর্মীকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন। এছাড়া হাসপাতালের দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার।
তিনি আরও জানান, বরিশাল শিশু হাসপাতাল আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে। পাশাপাশি আগামী জুলাই থেকে স্বাস্থ্য খাতে প্রায় এক লাখ জনবল নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও সতর্ক থাকার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়েছে এবং প্রয়োজন হলে মোবাইল হাসপাতাল চালু করা হবে।
পরে তিনি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং নির্মাণাধীন ক্যান্সার ও কিডনি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।
এ সময় বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, সিভিল সার্জনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আমার বার্তা/এমই

