
ব্যবসা পরিচালন ব্যায় হ্রাসে ও অভ্যন্তরীণ নদীপথের অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার গৃহীত দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচিতে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
সোমবার (১১ মে) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ব্যবসায়ী সংগঠন ঢাকা চেম্বার প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ। আরও উপস্থিত ছিলেন ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান এবং মহাসচিব (ভারপ্রাপ্ত) ড. একেএম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী।
পানি সম্পদ মন্ত্রী বলেন, সাশ্রয়ী যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম দেশের অভ্যন্তরীণ নদীপথের প্রয়োজনীয় উন্নয়নে নিশ্চিতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। ইতোমধ্যে বেশকিছু উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি খাত যৌথভাবে কাজ করলে একটি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই যোগাযোগমাধ্যম বিনির্মান করা সম্ভব হবে। যার মাধ্যমে, ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
তাসকীন আহমেদ বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌ-পথ ঐতিহাসিকভাবে শিল্পের কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহনের সবচেয়ে সাশ্রয়ী মাধ্যম হলে নদীতে পলি জমে নাব্যতা হ্রাস ও অবৈধ দখলের মতো প্রতিবন্ধকতার কারণে তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এ অবস্থা দূরীকরণে নদীতীর পুনরুদ্ধার ও পরিকল্পিত ড্রেজিং কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নকে অগ্রাধিকার উপর তিনি জোরারোপ করেন—যেন দেশের ব্যবসায়ী সমাজ কম খরচে ও অধিক কার্যকর বাণিজ্যিক লজিস্টিক সুবিধা ব্যবহার করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার জলাশয় খননের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়িত হলে নৌ-চলাচল বৃদ্ধি পাবে, ব্যবসার ব্যয় হ্রাস পাবে এবং একই সঙ্গে সেচ ও কৃষি উৎপাদনশীলতা এবং অর্থনীতির গতি বহুগুণে বাড়বে।
বিশেষকরে, রাজধানীর চারপাশের নৌপথের কৌশলগত ব্যবহার বাড়াতে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী নদীকে সংযুক্ত করে ঢাকাকে ঘিরে প্রায় ১১২ কিলোমিটার দীর্ঘ বৃত্তাকার নৌপথের যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রাজধানীর যানজট নিরসনে কার্যকর বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। এলক্ষ্যে খাল খনন ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদানে পিপিপি মডেলের আওতায় বেসরকারিখাতকে সম্পৃক্ত করার প্রস্তাব করেন তাসকীন আহমেদ।
আমার বার্তা/এমই

