
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যের ওপর কর বৃদ্ধি এবং সিগারেটের বিদ্যমান চার স্তরের পরিবর্তে একক মূল্য কাঠামো চালুর দাবি জানিয়েছে জ্ঞান ও আত্মা।
রোববার (১০ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে জ্ঞান (প্রজ্ঞা) ও অ্যান্টি ট্যোবাকো মিডিয়া অ্যালাইন্স (আত্মা) আয়োজিত 'বাজেট ২০২৬-২৭ : জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন ও তামাক রাজস্ব বৃদ্ধি' শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এ দাবি জানান।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রুমানা হক, বিশেষজ্ঞ আবু জামিল ফয়সাল, জহিরুল আলম, সৈয়দ আব্দুল হামিদ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, বর্তমানে সিগারেটে চারটি মূল্যস্তর (নিম্ন, মধ্যম, উচ্চ ও প্রিমিয়াম) থাকায় তামাক কর ও মূল্য পদক্ষেপ সঠিকভাবে কাজ করে না। বিশেষ করে নিম্ন এবং মধ্যম স্তরের সিগারেটের দাম কাছাকাছি হওয়ায় ভোক্তা যেকোনো একটি স্তরের সিগারেট বেছে নেওয়ার সুযোগ পায়। সিগারেট বাজারের সিংহভাগ দুই স্তরের দখলে রয়েছে। এই দুটি স্তরকে একত্রিত করে দাম ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হলে স্বল্প আয়ের ধূমপায়ী ধূমপান ছাড়তে বিশেষভাবে উৎসাহিত হবে। একইসঙ্গে তরুণ প্রজন্য ধূমপান শুরু করতেও নিরুৎসাহিত হবে।
বক্তারা আরো বলেন, বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) এবং অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনায় তামাক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত লক্ষ্য অর্জনে বদ্ধপরিকর। এসব লক্ষ্য অর্জনে তামাকপণ্যে কর বৃদ্ধি হচ্ছে একটি ব্যয়-সাশ্রয়ী পদক্ষেপ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত সিগারেট কর সংস্কার একটি সুস্থ জাতি গঠনে অবদান রাখার পাশাপাশি, দেশের স্বাস্থ্যখাত ও উন্নয়ন অগ্রাধিকারগুলোতে অর্থায়ন এবং টেকসই কর ব্যবস্থার উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অতিরিক্ত অর্থের জোগান দেবে।
তামাকের ব্যবহার কমাতে সংগঠনের পক্ষ থেকে ৬ দফা সুপারিশ করা হয়। সেগুলো হলো-
১. অ্যাড ভ্যালোরেম-এর পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতি প্রবর্তন করে নিয়মিতভাবে মূল্যস্ফীতি এবং মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির সাথে সংগতি রেখে করহার বৃদ্ধি করা।
২. একক মূল্যস্তর কাঠামোয় নিয়ে আসার লক্ষ্যে সিগারেটের বিদ্যমান মূল্যস্তরগুলোর মধ্যে দামের পার্থক্য কমিয়ে আনা।
৩. বিড়ির কর ও মূল্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাড়াতে হবে যাতে সস্তা সিগারেটের সঙ্গে মূল্য পার্থক্য কমে আসে।
৪. ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যের কর ও মূল্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাড়ানো এবং কর আহরণ ব্যবস্থা জোরদার করা।
৫. তামাকপণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক পুনর্বহাল করতে হবে।
৬. একটি সহজ এবং কার্যকর তামাক কর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন (৫ বছর মেয়াদি) করা, যা তামাকের ব্যবহার হ্রাস এবং রাজস্ব বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।
আমার বার্তা/এমই

