
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (২৩ জুন) কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (২২ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি।
আগামীকাল মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেন্দ্র করে ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোনো নাশকতার আশঙ্কা আছে কি না- জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি। কিন্তু শৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে এবং আমাদের সবসময় সতর্ক থাকতে হয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ যে মাফিয়া বাহিনী আওয়ামী লীগের কিছু অপতৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় আমরা দেখেছি, তারা মিছিল-মিটিং করার মতো কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছে, দু-একটা জায়গায় দেখেছি। তাতে আমাদের মনে হয়েছে, তারা হয়তো একটা অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করলেও করতে পারে। এ বিবেচনায় আমরা আমাদের সব বাহিনীকে সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি, যা সবসময় থাকে।’
তিনি বলেন, ‘এর বাইরে আমরা আজ থেকে ৩০ তারিখ (জুন) পর্যন্ত আমাদের সেনা সদস্যদের আবার ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার আইন মোতাবেক ঢাকা মেট্রো, চট্টগ্রাম মেট্রো, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর মেট্রো এবং এর বাইরে দুটো জেলা, তাতে আমরা (সেনাবাহিনী) ডেপ্লয় (মোতায়েন) করেছি, যাতে যে কোনো রকমের অপতৎপরতা অ্যাড্রেস করা যায়, ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার।’
পুলিশের প্রতি যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে, সেখানে সেনাবাহিনী তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়, আবার ছয় জেলায় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত- এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'এখানে আস্থা-অনাস্থার প্রশ্ন আসে কেন? আমাদের পুলিশ বাহিনী যে সমস্ত কৃতিত্বপূর্ণ কার্যক্রম করেছে, অ্যাচিভমেন্ট আছে, সবগুলো যেন আমরা পুরস্কৃত করেছি। দুই-একটা জায়গায় যেখানে একটু শৃঙ্খলাপন্থী কর্মকাণ্ড করেছে, তাদেরকে আমরা পানিশ করেছি। এখানে আস্থাহীনতার তো কোনো বিষয় নেই। আমরা সবসময় প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার, মাঝে মধ্যে বিজিবিকে আনি, মাঝে মধ্যে সেনা সদস্যদেরকে আমরা নিয়োগ করি, দিস ইজ আ রুটিন ওয়ার্ক।'
পুলিশ কি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে পারছে না- এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৫ জুন সারা বাংলাদেশ থেকে সেনা সদস্যদের প্রত্যাহার করা হয়েছে, যারা দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর যাবৎ মাঠে ছিল, ইনটেরিম গভর্নমেন্টের সময় ছিল। কিন্তু আমরা নির্বাচিত সরকারে আসার পরে আমরা যত শীঘ্রই সম্ভব তাদেরকে মাঠ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু এখন যেটা আমরা কয়েকটা জায়গায় ডেপ্লয় করতে যাচ্ছি, সেটার সাথে ওই পরিস্থিতির কোনো মিল নাই, এটা ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার।’
এ ছয় জেলায় সেনাবাহিনী পুলিশকে সহযোগিতা করবে বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
অন্য জায়গায় কি তাহলে কোনো ধরনের আশঙ্কা নেই? এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘না না, আমরা মনে করেছি কোনো কোনো জায়গায় তাদের অপতৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের ইন্টেলিজেন্স রিপোর্টের ভিত্তিতে আমরা সেটা করছি। এটা শুধু নয়, আরও কিছু বিষয় আছে, আমি এখানে এগুলো ফাঁস করতে চাই না। দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য কিছু কিছু মহল, কোনো কোনো মহল অপতৎপরতায় লিপ্ত আছে। তো সেজন্য আমরা অ্যালার্ট থাকার অংশ হিসেবে।’
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপির একজন ছেলেকে নিয়ে আসা হয়েছিল, জিজ্ঞাসাবাদ করে মুচলেকা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আসলে মেসেজটা কী, তাকে কী অভিযোগে আনা হয়েছিল, পুলিশ ছেড়েই বা দিল কেন? এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপির ছেলের কি কোনো বিশেষ অধিকার আছে? আইনের চোখে সবাই সমান। পুলিশের কাছে বিভিন্ন রকমের অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে, সেগুলোর জন্য জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে তারা নিয়ে এসেছে, জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং প্রয়োজন মনে করেছে তার কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়ার, প্রয়োজন মনে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে।'
পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ এসেছিলেন। একজন সনাতন ধর্মের নারী তাদের জন্য আলাদা প্রদেশ চাচ্ছেন, এটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে- এ বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ আমার সাথে সাক্ষাৎ করার, সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য বেশ কিছুদিন আগেই তারা সময় চেয়েছিল। আমি এতদিন সময় দিতে পারিনি, আজকে সময় দিয়েছি। তাদের অনেক বিষয়ে কথা আছে। আমাদের দেশের যারা হিন্দু ভাইবোন, তাদের পক্ষ থেকে তাদের অনেক দাবি-দাওয়া আছে, বিভিন্ন বিষয়ে, সেগুলো নিয়ে তারা কথা বলেছে। আমরা সহযোগিতা চেয়েছি আমাদের যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বহাল থাকে, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকি, সেভাবে যেন সবাই কাজ করে।
এর মধ্যে প্রসঙ্গক্রমে একজন ভদ্রমহিলা যিনি আলাদা প্রদেশ চেয়েছেন বললেন, সে প্রসঙ্গটাও এসেছে। হয়তো তার স্লিপ অব টাং হতে পারে বা হয়তো অনেকেই অনেক সময় বক্তৃতা দেওয়ার সময় অতি উৎসাহে অনেক কিছু বলে ফেলেন।’
এগারো দল সমাবেশ ডেকেছে, তারা বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের চেয়েও এখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সত্যিকারের ডাটা, তথ্য, রিপোর্ট সবকিছু বিশ্লেষণ করে দেখুন, বিগত যে কোনো সময়ের তুলনায়, অন্যান্য বছর এবং মাসওয়ারি অপরাধ চিত্র আমাদের এই সময়ে অনেক কম।
তিনি বলেন, ‘বিরোধীদল ১১ দলের ব্যানারে সমাবেশ করছে, গণতন্ত্র বিকশিত হচ্ছে। তারা তাদের কথা বলবে, দে আর অ্যাট লিবার্টি। আমরাও আমাদের কথা মাঠে বলব।’
আমার বার্তা/এমই

