ই-পেপার শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২

শিক্ষক নিয়োগে বৈষম্য: ১-১২তম ব্যাচের নিবন্ধিতদের ন্যায়বিচার দাবি

আমির আসহাব:
২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬:৩১
আপডেট  : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬:৩৯

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা যেন এক অন্ধকার গহ্বরে নিমজ্জিত। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যায়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) ২০০৫ সালে গঠিত হয়েছিল যোগ্য, দক্ষ এবং মেধাবী শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে। কিন্তু ২০১৫ সালে নিয়োগের পূর্ণ দায়িত্ব এই সংস্থার হাতে ন্যস্ত হওয়ার পর থেকে এটি দুর্নীতি, অনিয়ম, বৈষম্য এবং সিন্ডিকেট-নির্ভর ব্যবস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে ১ম থেকে ১২তম ব্যাচের নিবন্ধিত হাজার হাজার শিক্ষক, যারা ১২ জুন ২০১৮ সালের পূর্বে সনদ অর্জন করেছেন, তারা বছরের পর বছর নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই ব্যাচের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে সনদের মেয়াদ (৩ বছর) এবং এমপিও নীতিমালা অনুসারে বয়সসীমা (৩৫ বছরের ঊর্ধ্বে নয়) প্রযোজ্য নয়—এমন দাবি উঠেছে বারবার, কিন্তু সরকারের নীরবতা এবং প্রশাসনিক কৌশল এই অবিচারকে চিরস্থায়ী করে তুলেছে।

২০১৫ সালের পূর্বে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ছিল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে। সেই ব্যবস্থায় যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং প্রতিষ্ঠানিক চাহিদার ভিত্তিতে নিয়োগ হতো। কিন্তু এনটিআরসিএ-এর কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর নিয়োগ প্রক্রিয়া 'সিস্টেম' থেকে 'সিন্ডিকেট' দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে। ১-১২তম ব্যাচেরপরবর্তী ব্যাচগুলোতে (১৩তম থেকে) সনদের মেয়াদ ৩ বছর নির্ধারিত হলেও, পুরোনো ব্যাচের জন্য এই শর্ত প্রয়োগ করে তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। জাতীয় মেধা তালিকা প্রকাশের পরও ১-১২তম ব্যাচের একটি বড় অংশকে কৌশলেবিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে নিয়োগ সুপারিশ থেকে বাইরে রাখা হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিগুলো এই বৈষম্যের স্পষ্ট প্রমাণ। প্রথম গণবিজ্ঞপ্তি (২০১৬) প্রায় ১৬ হাজার শূন্যপদ ঘোষণা করে, কিন্তু জেলা-উপজেলা সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক পদ ফাঁকা থেকে যায়। দ্বিতীয় (২০১৮) ৪০ হাজার পদে মহিলা কোটা এবং ইনডেক্সধারীদের বদলির নামে নতুন নিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়। তৃতীয় (২০২১) ৫৪ হাজার ৩০৪ পদ ঘোষণা করে, কিন্তু নতুন নিয়োগ মাত্র ১৪ হাজারের কম; প্রায় ২২ হাজার পদ বদলিতে ব্যবহৃত হয়, এবং 'যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া'র দোহাই দিয়ে হাজার হাজার পদ ফাঁকা রাখা হয়। চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীরা ৪০টি প্রতিষ্ঠান চয়েস করতে পারেন বলা হলেও, বাস্তবে অনেক ফাঁকা পদ থাকা সত্ত্বেও সুপারিশ দেওয়া হয়নি।

২০২৫ সালের জুন মাসে ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে ১ লক্ষ ৮২২টি শূন্যপদ ঘোষণা করা হয়, এবং অগস্টে প্রায় ৪১ হাজার শিক্ষকের নিয়োগ সুপারিশ হয়। কিন্তু কিছু বিষয়ে যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ার কারণে সব পদ পূরণ হয়নি। এই সবের মধ্যে ১-১২তম ব্যাচেরঅধকিাংশ শিক্ষকরা বছরের পর বছর বেকার থেকে যাচ্ছেন, যাদের নিবন্ধন সনদ, বিএড-এমএড ডিগ্রি, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং পিডিএস আইডি সবই আছে। তারা গত ১৬ বছর ধরে বিনা বেতনে বা অর্ধবেতনে কাজ করছেন, শুধু ন্যায়বিচারের আশায়।

দুর্নীতি এবং সিন্ডিকেটের ছায়া এই প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে। সনদ বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য এবং অবৈধ সনদধারীদের প্রভাব স্পষ্ট। প্রায় ১০ হাজার অবৈধ সনদধারীকে বৈধতা দেওয়ার সুপারিশ চলছে, যেখানে বৈধ নিবন্ধিতরা বেকার। শিক্ষা উপদেষ্টারা স্বীকার করেছেন যে নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং 'ভোটার নিয়োগ' হয়েছে। ৪০ নম্বর পেয়ে নিয়োগ হচ্ছে, অথচ ৭০-৮০ নম্বরধারী বাদ পড়ছেন। দেশে লক্ষাধিক শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও আবেদনকারী মাত্র ৩০-৪০ হাজার হওয়ার পেছনে কৃত্রিম সংকট এবং বৈষম্য দায়ী। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ফেসবুকে আলোচনা চলছে যে ১-১২ ব্যাচের নিয়োগ ৪ ডিসেম্বর অনুমোদিত হবে কি না, এবং ৬০ হাজার ফেক শিক্ষকের উল্লেখ আছে।

এই অবিচারের বিরুদ্ধে ১-১২তম ব্যাচের শিক্ষকরা ২০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে শাহবাগে আন্দোলন করেছেন। ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ প্রোটেস্ট সাসপেন্ড হয়, কিন্তু জুন মাসে সচিবালয় অভিমুখে মার্চ করতে গেলে পুলিশ ব্যাটন চার্জ করে। অক্টোবরে NTRCA অফিস ঘেরাওর হুমকি দেওয়া হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং উপদেষ্টা পরিষদ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, কিন্তু লিখিত পদক্ষেপ নেই। সম্প্রতি ঘোষণা হয়েছে যে ভবিষ্যতে সকল উত্তীর্ণ প্রার্থীকে চাকরির সুযোগ দেওয়া হবে এবং সনদের মেয়াদ থাকবে না—কিন্তু এটি নতুন ব্যাচের জন্য, যা পুরোনো ব্যাচের জন্য নতুন বৈষম্য সৃষ্টি করছে। বিসিএস-এ ২৭ বছর পরও পুনর্বিবেচনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তাহলে এই শিক্ষকদের জন্য কেন নয়?

১২ জুন ২০১৮ সালের পূর্বে সনদপ্রাপ্ত নিবন্ধিত শিক্ষকদের বয়স এবং সনদের মেয়াদ অপ্রযোজ্য ঘোষণা করে, তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তির আলোকে তাদের নিয়োগ নিশ্চিত করা দরকার। এটি শুধু ন্যায়বিচার নয়, শিক্ষক সংকট নিরসন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার বৈষম্য দূর করার অঙ্গীকার করেছে—এখন সেই অঙ্গীকার পূরণের সময়। অন্যথায় শিক্ষা ব্যবস্থা, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং রাষ্ট্রের বিবেক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

লেখক : শিক্ষক, এনটিআরসিএ (১-১২তম) ব্যাচের নিবন্ধিত শিক্ষক।

আমার বার্তা/আমির আসহাব/এমই

সিলভার ইকোনমি: বার্ধক্য কি বোঝা, নাকি বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা

বাংলাদেশকে আমরা প্রায়ই একটি তরুণ দেশের গল্প হিসেবে তুলে ধরি। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কিংবা

অচল চট্টগ্রাম বন্দর বাঁচান, অর্থনীতি রক্ষা করুন

দেশের আমদানি–রপ্তানি বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দর আজ কার্যত অচল। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব

মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সমীকরণ: সংঘাত নাকি দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা?

একবিংশ শতাব্দীতে এসে ভূ-রাজনীতির সবচেয়ে জটিল এবং অমীমাংসিত সমীকরণটির নাম ‘মধ্যপ্রাচ্য’। গত কয়েক দশকে এই

জুলাই সনদ, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং বাংলাদেশের হারানো বিশ্বাস

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, গণভোট এবং জুলাই সনদের ধারণ সবচেয়ে বেশি বহন করেছেন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নির্বাচন বন্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: তারেক রহমান

তারুণ্যের ভাবনাকে আমরা ধারণ করি, মেধানির্ভর বাংলাদেশ গড়ব

সিলভার ইকোনমি: বার্ধক্য কি বোঝা, নাকি বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা

কাঠামোগত দুর্বলতায় গণভোটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে

গুলশানে তারেক রহমানের পক্ষে গণসংযোগে জাইমা রহমান

এথিক্যাল ও বৈজ্ঞানিক প্রোটোকল ছাড়া গবেষণা গ্রহণযোগ্য নয়: বিশেষজ্ঞরা

জাবেরের গুলিবিদ্ধের খবর ছড়ানো ক্লিকবেইট সাংবাদিকতার ফল

রোববার ও সোমবার ঢাকার ১৪ স্থানে জনসভা করবেন তারেক রহমান

চট্টগ্রাম বন্দরে আগামীকাল থেকে লাগাতার ধর্মঘট

এবার সুযোগ পেলে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলব: তারেক রহমান

অচল চট্টগ্রাম বন্দর বাঁচান, অর্থনীতি রক্ষা করুন

একটি দল ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে: মাহদী আমিন

কুষ্টিয়ায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহত

পুলিশ সাংবাদিক পেটানোর কর্মসূচিতে নেমেছিল: প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা

নির্বাচনে ঋণগ্রহীতা ৫১৯ প্রার্থী, শীর্ষে বিএনপি: সুজনের তথ্য

এবারের নির্বাচন শুধু প্রতিনিধি বাছাই নয়, দেশ পুনর্গঠনের লড়াই

জামায়াতের মতো মিথ্যাবাদী দুনিয়ায় দ্বিতীয়টি আর নেই: চরমোনাই পীর

আমি নিজেও এক শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য: জামায়াতে আমির

নির্বাচনের জন্য সারাদেশে দুই দিন দোকান ও শপিং মল বন্ধ থাকবে

বাংলাদেশে প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে নিপাহর মতো আরেক ভাইরাস