
ধানের শীষকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিয়ে দেশ পুনর্গঠনের যাত্রা শুরু করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মতিঝিলের পীর জঙ্গি মাজার রোডে ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা-৮ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী, এলাকার সন্তান ও পরীক্ষিত নেতা মির্জা আব্বাসের হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দেন।
এরপর ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ১২ তারিখ আপনারা মির্জা আব্বাসকে বিজয়ী করবেন, আর ১৩ তারিখ থেকে তিনি আজীবন আপনাদের পাশে থাকবেন।
‘এলাকার সমস্যা সমাধানে বাইরের কেউ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না। ঘরের মানুষকেই ঘরের মানুষ চেনে। এলাকার মানুষের দুঃখ-কষ্ট বোঝে—এমন মানুষ ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়’—মির্জা আব্বাসের পক্ষে ভোট চেয়ে ভোটারদের উদ্দেশে বলেন তিনি।
তারেক রহমান আরও বলেন, এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতা পরিবর্তনের নয়, এটি দেশের ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনের নির্বাচন। যার জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং জীবনের ভিত্তি এই এলাকার মানুষের সঙ্গে জড়িত, তাকেই জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করা উচিত।
তিনি বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ইনশাল্লাহ্, ধানের শীষের সরকার গঠিত হলে সেটি হবে জনগণের সরকার। বর্তমানে যেসব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, তাদের মধ্যে একমাত্র বিএনপিরই দেশ পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে।
দলটির প্রধান আরও বলেন, বিএনপি শুধু অতীত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করছে না, বরং দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হয়েছে। দেশ ভালো থাকলে বিএনপিও ভালো থাকবে—এই বিশ্বাস থেকেই আমরা রাজনীতি করি।
আগামীর বিএনপি সরকার নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করবে জানিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে প্রতি মাসে গৃহিণী ও খেটে খাওয়া নারীদের সরাসরি সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
তরুণদের কর্মসংস্থান বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশের একটি বড় সংকট এটি। এ সংকট মোকাবিলায় বিএনপি আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা নিয়েছে।
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে মিল-কারখানা স্থাপন এবং প্রতিটি জেলায় ভোকেশনাল, টেকনোলজিক্যাল ও আইটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার কথাও জানান তিনি।
স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে সারাদেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এসব স্বাস্থ্যকর্মী ঘরে ঘরে গিয়ে মা, শিশু ও নারীদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেবেন।
তিনি বলেন, খেলাধুলায় প্রতিভাবান তরুণদের পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেন তারা কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দেশের সুনাম বয়ে আনতে পারে।
ধর্মীয় নেতাদের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, মসজিদ-মাদরাসার ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনসহ সব ধর্মের ধর্মগুরুরা সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিএনপি সরকার গঠন করলে তাদের জন্য সম্মানজনক ভাতা চালু করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস হবে না। যে দুর্নীতি করবে, সে অপরাধী—সে কোনো দলের হতে পারে না। আইনের চোখে সবাই সমান।
আমার বার্তা/এমই

