ই-পেপার বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩৩

এলপি গ্যাস সংকটের আড়ালে হাজার কোটি টাকা লুট!

মোস্তফা সারোয়ার:
২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:৩২

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সংকটের অজুহাতে গ্রাহকের পকেট থেকে কেটে নেয়া হচ্ছে বাড়তি আড়াই হাজার কোটি টাকা। নির্ধারিত দামের চেয়ে সিলিন্ডার প্রতি গুনতে হচ্ছে ৭০০ থেকে ১৭০০ টাকার বেশি।

আমার বার্তার সাথে কথা হয় রাজধানীর জুরাইনের বাসিন্দা লুৎফা শিকদারের সাথে । বাসায় সংযোগ আছে তবে প্রায়ই গ্যাস থাকেনা। এতে প্রতি মাসে ১০৮০ টাকা গ্যাস বিলের পাশাপাশি কিনতে হয় এলপিজিও। কিন্তু এখন সিলিন্ডারের অস্বাভাবিক দামের কারণে ব্যয় বাড়ছে চক্রবৃদ্ধি হারে।

তিনি বলেন, লাইনের গ্যাসের জন্য অহেতুক দিতে হচ্ছে ১১০০ টাকা। আর সিলিন্ডার গ্যাসের দাম তো ডাবল হয়ে গেছে। আমরা কোন দিকে যাব? আয়ের তুলনায় তো খরচ বেড়ে গেছে।

রাজধানীর মিরপুর কাজীপাড়ার বাসিন্দা মিতা বেগম ও তার প্রতিবেশীদের একই অভিজ্ঞতা। আয় না বাড়লেও পাল্লা দিয়ে ব্যয়ের নতুন নতুন খাত বাড়ায় চিড়েচেপ্টা অবস্থা মধ্যবিত্তের। সাধারণ মানুষ বলছেন, যেখানে আগে গ্যাসের দাম ১২০০-১৩০০ টাকা, মাঝে মাঝে ১৫০০ টাকার বেশি হতো, সেখানে এখন এক সিলিন্ডারের দাম ২২০০ টাকা! এতটা ক্ষতিগ্রস্ত আগে কখনো হতে হয়নি। আয় সীমিত, বেতন বাড়েনি। দেখার কেউ নেই, ইচ্ছেমতো দাম বাড়ানো হচ্ছে। দোকানগুলোতে এখন টাকা বেশি দিলে সিলিন্ডার মিলছে, কম দিলে পাওয়া যাচ্ছে না।

সিলিন্ডার নৈরাজ্যে হোটেল-রেস্তোরাঁয়ও জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে দ্বিগুণ। রাজধানীর রামপুরার ব্যবসায়ী মো. টিপু সুলতানের মাত্র ১০ দিনে এলপি গ্যাসের পেছনে বাড়তি ব্যয় ৯ হাজার টাকা। অন্যদেরও ব্যবসা চালাতে হিমশিম অবস্থা। তিনি বলেন, ছোট তিনটি সিলিন্ডারে ৩ হাজার টাকা বেশি খরচ হচ্ছে, বড় সিলিন্ডারে ৬ হাজার টাকা। এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ৯ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি খাবারের দাম বাড়াতে পারছি না। এতে এক টাকাও আমাদের লাভ হচ্ছে না।

অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও একই সমস্যার মুখোমুখি। তারা জানান, সিলিন্ডারও ঠিকমতো পাচ্ছেন না। এখন পুরোটাই লস। কারণ গ্যাসের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।

সরজমিনে বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েকদিন ধরেই রাজধানীতে ১২ কেজি এলপিজি বিক্রি হচ্ছে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায়, যা নির্ধারিত দামের চেয়ে ৭০০ থেকে ১২০০ টাকা বেশি। আর ৩৫ কেজি সিলিন্ডারের জন্য বাড়তি নেয়া হচ্ছে ১৭০০ টাকা পর্যন্ত।

এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতির তথ্যমতে, বাজারে থাকা সাড়ে ৫ কোটি সিলিন্ডারের মধ্যে বর্তমানে মাসে দুইবার রিফিল হচ্ছে সোয়া কোটি সিলিন্ডার। সে হিসেবে প্রতি সিলিন্ডারে এক হাজার টাকা বাড়তি নেয়া হলেও মাসে গ্রাহকের পকেট থেকে লুটে নেয়া হচ্ছে আড়াই হাজার কোটি টাকা।

সংকটকে অজুহাত করে গ্রাহকের পকেট থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের পেছনে সরকারের ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায় রয়েছে বলে মনে করছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংগঠনটির জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম. শামসুল আলম বলেন, এখন শুধু এলপিজি বাজার না, এলপিজি ব্যবসায়ীরা সরকারকেই নিয়ন্ত্রণ করছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানকেও। এটা কি ভয়াবহ পরিস্থিতি না? ভোক্তা অধিদফতর কী করছে? এমন অবস্থায় রাষ্ট্র কোথায়? কোনো সভ্য সমাজ কি এমন কিছু অনুমোদন করতে পারে?

এলপি গ্যাস নিয়ে চলমান নজিরবিহীন নৈরাজ্যের মাঝেও সব পক্ষ নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। তবুও নিরুপায় গ্রাহকরা ভোগান্তিতে, কারণ দিনশেষে বাড়তি দামের বোঝা তাদেরই বহন করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, অতি প্রয়োজনীয় এই জ্বালানি পণ্যের আমদানি স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারে কড়া নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার যেন চোরাই পণ্য হয়ে গেছে। সংকটের দোহাই দিয়ে সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের চলছে ইঁদুর-বিড়াল খেলা। প্রকাশ্যে দোকানে দেখা মিলছে না, তবে মুঠোফোনে দাম ঠিক করে অজানা স্থান থেকে ঠিকই সিলিন্ডার হাজির করছেন ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে বাজারের খুচরা দোকানগুলোতে দেখা যায়, শুধু খালি সিলিন্ডার রয়েছে; বলা হচ্ছে গ্যাস নেই। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, গ্রাহকরা বারবার এসে বিরক্ত করছেন। তাই দোকান বন্ধ রাখা হচ্ছে।

তবে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে একই সিলিন্ডার দ্বিগুণ দামে মিলছে। মুঠোফোনে একজন ব্যবসায়ী বলেন, আমার কাছে গ্যাস নেই, তবে দেখতে পারি। বেশি দরকার হলে দেয়া যাবে। দাম বেশি পড়বে। সকালে একটি সিলিন্ডার ২৫০০ টাকায় বিক্রি করেছি।

এদিকে বাজারে এক বা দুটি নয়, ভ্যান ভর্তি গ্যাস আসছে। এমন ইঁদুর-বিড়াল খেলা চলে সরবরাহকারীর গোডাউনেও। টঙ্গির নতুন বাজারের একটি গোডাউনে দেখা গেছে ভর্তি সিলিন্ডার, বেচা-বিক্রি চলছে।

এভাবেই নিত্যপ্রয়োজনীয় সিলিন্ডার গ্যাস দেশে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বিক্রি করা হচ্ছে। গ্রাহকরা বলছেন, দোকানে গ্যাস নেই বললেও ফোন করলে ২০০০, ২২৫০ বা ২৫০০ টাকায় গ্যাস পাওয়া যায়। মূলত দোকান ভর্তি খালি সিলিন্ডার, কিন্তু বেশি টাকা দিলে ঠিক দোকানের সামনে থেকেই গ্যাস মেলে।

কৃত্রিম এই সংকটের কারণ আসলে কী? বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার গ্যাস নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করলে খুচরা ব্যবসায়ীর লাভ হয় মাত্র ৫০ টাকা। প্রতিদিন ২০০ সিলিন্ডার বিক্রি করলে লাভ হয় ১০ হাজার টাকা। কিন্তু সংকট ধরে বিক্রি করলে প্রতিটি সিলিন্ডারে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হয়। এতে লাভ দাঁড়ায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। সারাদেশের ৪ কোটি গ্রাহকের ওপর হিসাব করলে সিন্ডিকেটের লাভ প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর বলছে, এটি একটি বড় সিন্ডিকেটের কাজ। ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক বিকাশ চন্দ্র দাস জানান, কিছু অসৎ ব্যবসায়ী মজুত গড়ে তুলেছে। যারা বেশি টাকা দিচ্ছে, তারাই গ্যাস পাচ্ছে।

এলপিজি আমদানি নিয়ে পিআইডির তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বর মাসে ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি গ্যাস আমদানি করা হয়েছিল। তখন কোনো সংকট দেখা যায়নি। কিন্তু পরের মাসে আরও ২২ হাজার মেট্রিক টন বেশি আমদানি হলেও কৃত্রিম সংকট শুরু হয়।

শক্তিশালী বাজার সিন্ডিকেটের কাছে সরকারি কর্তা ব্যক্তিদের অসহায়ত্ব নতুন কিছু নয়। বছরের পর বছর ধরে এসব সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষের গলার কাঁটা হয়ে আছে চড়া দ্রব্যমূল্য। পেঁয়াজ, ডিম, তেল থেকে শুরু করে গ্যাস-সব ক্ষেত্রেই সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করে মুনাফা করছে এই চক্র।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, বর্তমানে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে, যা সিন্ডিকেটের কারসাজির ফল। দ্রব্যমূল্য নিয়ে সক্রিয় ব্যবসায়িক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলো কী ব্যবস্থা নেবে-তা নির্বাচনের আগে স্পষ্টভাবে জানতে হবে।

আমার বার্তা/এমই

বিআরটিএ মেট্রো ১ সহকারি পরিচালক ফয়েজ এর বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ

মিরপুর বিআরটিএতে রুট পারমিট শাখায় টাকা ও ফয়েস সিন্ডিকেটের মাধ্যম ছাড়া স্বাক্ষর হচ্ছে না গাড়ির

বিদেশি পাসপোর্টধারী ইবিএল চেয়ারম্যানের অর্থ পাচার নিয়ে তদন্তে সিআইডি

ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির (ইবিএল) চেয়ারম্যান মো শওকত আলী চৌধুরীকে ঘিরে মানিলন্ডারিং অনুসন্ধান নতুন মাত্রা পেয়েছে।

দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন প্রকৌশলী কায়সার ও ক্যাশিয়ার এনামুল

​জুলাই বিপ্লবের পর দেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে পরিবর্তনের হাওয়া লাগলেও স্থবির হয়ে আছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা

রাজউকে নকশা-নোটিশের আড়ালে দুর্নীতি: কোটি টাকার মিশনে ইমারত পরিদর্শক বিটু

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৭ এ গড়ে উঠেছে দুর্নীতির জটিল গোলকধাঁধা। এখানে ‘ইমারত পরিদর্শন’ নামক
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইবির ডেবেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রবীণ বিদায়

চ্যাটজিপিটিতে বয়স শনাক্তের ফিচার চালু

সুশাসনের অভাবে ব্যাংকিং খাত থেকে ৩ লাখ কোটি টাকা বেরিয়ে গেছে: গভর্নর

৩০০ আসনেই নির্বাচন, মধ্যরাত থেকে ব্যালট পেপার ছাপা শুরু

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় বাসাবাড়িতে ঢুকে হত্যা

বাংলাদেশে অটোমোটিভ শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে বৈঠক

মব সৃষ্টি করে জনমত প্রভাবিত করার দিন এখন শেষ: জামায়াত আমির

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন সর্বনিম্ন ২০,০০০ টাকা, সর্বোচ্চ ১,৬০,০০০ টাকা

শাবান মাসের শুরুতে পড়ার দোয়া

রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতা দেওয়া হলে প্রধানমন্ত্রী স্বৈরাচারী হতো না: সাখাওয়াত

শ্রীলঙ্কাকে হারাল বাংলাদেশ

গাজা শান্তি বোর্ড: ট্রাম্পের আমন্ত্রণে রাজি হলেন আমিরাতের প্রেসিডেন্ট

শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অভিযোগ পেছালো

অংশীজনদের থেকে পুঁজিবাজারের সমস্যা শুনে সমাধানের আশ্বাস তারেক রহমানের

মাইলস্টোনে হতাহত পরিবারের সঙ্গে কথা বললেন তারেক রহমান

নিয়োগ দেবে আকিজ ফুড, ২৫ বছর হলেই আবেদন

৩৬ বার অপারেশনের পর ঘরে ফিরল আবিদ

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হয়েছে ইসলামিক ব্যাংকিং বিভাগ

খালেদা জিয়ার আদর্শে কাজ করতে চান তু‌লি

জাতীয় স্কেলে বেতন পাবেন ইমাম-মুয়াজ্জিন, গেজেট প্রকাশ