
ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা ফিলিস্তিনি শিশুদের পক্ষে আবেগী এক বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি শিশুদের কষ্ট দেখে নিজের যন্ত্রণার কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্ববাসীকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার রাতে স্পেনের বার্সেলোনায় একটি দাতব্য কনসার্টে বক্তব্য দেন গার্দিওলা। এ কারণে শুক্রবার তার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি উপস্থিত ছিলেন না। তার ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি জানায়, ব্যক্তিগত কারণে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। তার জায়গায় সহকারী কোচ পেপ লিন্ডার্স সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন। সেখানে রোববার টটেনহ্যামের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে আলোচনা হয়।
গার্দিওলার দেখা মেলে বার্সেলোনায়, দাতব্য কনসার্টে। সেখানে তিনি কেফিয়াহ স্কার্ফ পরে ওঠেন মঞ্চে। ‘শুভ সন্ধ্যা, সালাম আলাইকুম, কত সুন্দর!’ — বলে তিনি তার বক্তব্য শুরু করেন।
এরপরই তিনি তুলে ধরেন গাজার কথা, সেখানকার শিশুদের কথা। তিনি বলেন, ‘গত দুই বছরে আমি যখন সোশ্যাল মিডিয়া আর টেলিভিশনে এসব ছবি দেখি, তখন একটা শিশুকে দেখি। সে নিজেই ভিডিও করছে। ধ্বংসস্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে বলছে, “আমার মা কোথায়?” আর সে এখনো জানে না তার মায়ের কী হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি সব সময় ভাবি, তারা কী ভাবছে? আমার মনে হয় আমরা তাদের একা ছেড়ে দিয়েছি। আমরা তাদের পরিত্যাগ করেছি। আমি কল্পনা করি তারা বলছে, “তোমরা কোথায়? আমাদের সাহায্য করতে এসো।”’
এরপরই তিনি বিশ্বনেতাদের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি যোগ করেন, ‘এমনকি এখনো আমরা কিছু করিনি। হয়তো ক্ষমতায় থাকা লোকেরা কাপুরুষ। কারণ তারা মূলত নির্দোষ তরুণদের পাঠায়, যেন তারা অন্য নির্দোষ মানুষকে হত্যা করে।’
গার্দিওলা বলেন, ‘এটি ফিলিস্তিনের জন্য একটি বার্তা। একই সঙ্গে এটি মানবতার জন্য একটি বার্তাও। তিনি সবাইকে ‘এক ধাপ এগিয়ে আসার’ আহ্বান জানান।’
ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে গত অক্টোবরে একটি যুদ্ধবিরতি হয়। তবে সেটা ভেঙে গেছে দিনকয়েক পরই, বহু মানুষ মারা গেছে সে ‘যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণার পরও। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে ৪০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীও এখন স্বীকার করছে, গাজা যুদ্ধে প্রায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি গণমাধ্যমে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ হয়েছে।
আমার বার্তা/জেইচ

