
হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার সঙ্গে দীর্ঘ চার বছরের অধ্যায় শেষে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন থমাস ডুলি। তার জীবন ও ক্যারিয়ার বেশ বৈচিত্রময়। জন্ম জার্মানিতে, সেখানকার ক্লাব ফুটবলে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে ডিফেন্ডার ও মিডফিল্ডার উভয় ভূমিকায়। তবে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জন্য বেছে নিলেন যুক্তরাষ্ট্রকে। তাদের হয়ে অধিনায়কত্ব করেছেন ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপে।
১৯৯০-এর দশকে ডুলি যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় ফুটবল দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত ছিলেন। জার্মান পেশাদার লিগে বহু বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি মার্কিন ফুটবলে যোগ দেন ১৯৯২ সালে। মূলত একজন মার্কিন সেনাসদস্যের সন্তান হওয়ায় ডুলি যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন। এরপর অংশ নিয়েছেন ১৯৯৪ বিশ্বকাপে, ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত ১৯৯৮ বিশ্বকাপে তার হাতে ওঠে মার্কিন দলের নেতৃত্বের আর্মব্যান্ড।
এ ছাড়া জার্মান লিগে ১৪ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি ১৯৯০ সালে কাইজারস্লাউটার্নের হয়ে জার্মান কাপ জেতেন। ১৯৯৭ সালে এফসি শালকের হয়ে ইন্টার মিলানকে হারিয়ে উয়েফা কাপের চ্যাম্পিয়ন এবং একই বছর মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ক্লাব কলম্বাস ক্রিউতে নাম লেখান ডুলি। ২০০০ সালে পেশাদার ফুটবলকে বিদায় বলা এই ডিফেন্ডার ১০ বছর পর স্থান পান যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সকার হল অব ফেমে।
কোচিংয়েও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন ডুলি। ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি কিংবদন্তি ইউর্গেন ক্লিন্সম্যানের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করেছেন। এরপর রীতিমতো ইতিহাস লিখেছেন জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়ে। ডুলির নেতৃত্বে ফিলিপাইন অপরাজিত থেকে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেয় এবং অর্জন করে নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বিশ্ব র্যাঙ্কিং। সবশেষ তিনি ছিলেন গায়ানার প্রধান কোচ, যেখানে দলটি তার অধীনে চারটি ম্যাচের সবকটিতেই জিতেছে।
থমাস ডুলিকে হামজা-জামালদের কোচ নিয়োগের ঘোষণায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, কোচ ডুলি একটি দল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশেষ দক্ষ এবং এশিয়ার ফুটবলের বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ ও সমর্থকদের আবেগ সম্পর্কে তার রয়েছে গভীর ধারণা। বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় দলকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও সফল এক দলে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়েই এবার নতুন যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছেন ডুলি।
এর আগে বাফুফে ২ বছরের জন্য কোচ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল। যার বিপরীতে আড়াইশ’র বেশি সিভি থেকে একটি বিশেষ বাছাই কমিটি ২২ জনের তালিকা জাতীয় দল কমিটিকে দেয়। সেখান থেকে ১১ জনের আরেকটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করা হয়। সেই ১১ জনের সাক্ষাৎকার নেয় ফেডারেশনের কর্তারা। ওয়েলসের কোচ ক্রিস কোলম্যানকে নিয়ে আগ্রহ বেশি থাকলেও পরবর্তীতে এজেন্ট ফি নিয়ে জটিলতায় আর হয়নি। আলোচনায় ছিলেন ব্রেন্ডন স্টোকসও, তবে তার পরিবর্তে ডুলিকে বেছে নিয়েছে বাফুফে।
আমার বার্তা/জেএইচ

