
রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আদাবরে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ মাদকসহ ৬ কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন, দেশীয় অস্ত্র ও মাদক বিক্রির নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত মোহাম্মদপুর আর্মি ক্যাম্পের সদস্যরা আদাবর থানার সুনিবিড় হাউজিং এলাকা এবং মোহাম্মদপুর থানাধীন জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করে।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সুনিবিড় হাউজিং এলাকায় কতিপয় মাদক কারবারি গোপন বৈঠক ও মাদক লেনদেনে জড়িত। এ তথ্যের ভিত্তিতে রাত আনুমানিক ১টায় সেনাবাহিনীর একটি অভিযানিক দল সেখানে অভিযান চালিয়ে মহাবুব (৩৮), সুমন (৩৮), রাসেল (২৯), মোমিন (৩১), সাইদুল (২৭) ও মুকুল (৩৫) নামের ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকালে তাদের কাছ থেকে ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩৯টি সিমকার্ড এবং ২টি বড় ধারালো সামুরাই ছুরি উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিয়মিত মাদক কারবার, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোর ৪টার দিকে জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেনা দলের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্ট মাদক কারবারিরা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বাসার ছাদ দিয়ে পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ মাদক ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।
যেসব জিনিস উদ্ধার করা হয়েছে: ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৭৮০ পুরিয়া গাঁজা, ৬০০ গ্রাম গাঁজা, ২৩০ পুরিয়া হেরোইন, ১ বোতল বিদেশি মদ, ১টি মাদকের ওজন মাপার মেশিন, মাদক বিক্রির নগদ ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা এবং ৫টি সিসিটিভি ক্যামেরা।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
আমার বার্তা/জেএইচ

