
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসা তুরস্ক ও কমনওয়েলথের পৃথক দুটি পর্যবেক্ষক দল প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) তুরস্কের একটি প্রতিনিধিদল এবং এর আগে সোমবার কমনওয়েলথের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সরকার প্রধানের সঙ্গে এই বৈঠকে মিলিত হয়।
নির্বাচন কমিশন ও সরকারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য উন্মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার যমুনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে তুরস্কের সাত সদস্যের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের নেতৃত্ব দেন টার্কিশ–বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের চেয়ারপারসন মেহমেত আকিফ ইলমাজ। তুরস্কের পার্লামেন্ট সদস্যদের নিয়ে গঠিত এই দলটি বাংলাদেশের নির্বাচনী পরিবেশ ও প্রস্তুতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করেন।
দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। প্রধান উপদেষ্টা তুর্কি প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্র সুসংহত করতে তাদের এই উপস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এর আগে সোমবার কমনওয়েলথ অবজারভার গ্রুপের একটি বড় প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। ঘানার সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ ই নানা আকুফো-আডোর নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের এই বিশাল প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিভিন্ন কারিগরি ও রাজনৈতিক দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কমনওয়েলথ প্রতিনিধিদলটি দেশজুড়ে তাদের পর্যবেক্ষকদের মোতায়েন এবং নির্বাচন পরবর্তী মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে সরকার প্রধানকে অবহিত করেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে যে, উভয় দলের সঙ্গেই অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ড. ইউনূস বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আশ্বস্ত করেছেন যে, এই নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক মানের এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনে পরিণত করতে সরকার ও নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর।
পর্যবেক্ষক দলগুলো বাংলাদেশের নির্বাচনী আইন, ভোটারদের নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচারণার সুযোগ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। নির্বাচন উপলক্ষে ইতোমধ্যে কয়েক শ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দেশে পৌঁছাতে শুরু করেছেন, যা এই নির্বাচনের বিশ্বস্ততা অর্জনে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।
আমার বার্তা/এমই

