
বাংলাদেশের প্রায় ১৫ শতাংশ সাংবাদিক কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন- এমনই তথ্য উঠে এসেছে একটি জরিপে। ৩৩৯ জন সাংবাদিকের ওপর পরিচালিত ওই জরিপে দেখা যায়, পুরুষদের তুলনায় নারীরা মৌখিক, অনলাইন এবং শারীরিক হয়রানির শিকার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
বুধবার (২৫ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘গণমাধ্যম পেশাজীবীদের জন্য যৌন হয়রানি প্রতিরোধ প্রটোকল’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই ফল উপস্থাপন করা হয়।
বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের অংশীদারিত্বে ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব নিউজ পাবলিশার্স ২০২৫ সালে এই সমীক্ষা পরিচালনা করে। এতে ১০০ জন নারী ও ১৯০ জন পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া চারজন উত্তরদাতা তাদের লিঙ্গ প্রকাশ করেননি এবং ৪৫ জন তাদের পরিচয় গোপন রাখেন।
জরিপের ফলে দেখা গেছে, হয়রানির শিকার হওয়া নারীদের মধ্যে ৬০ শতাংশ মৌখিক নির্যাতনের কথা জানিয়েছেন, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ৯ শতাংশ।
অনলাইন হয়রানির শিকার হয়েছেন ৪৮ শতাংশ নারী ও ১৫ শতাংশ পুরুষ। অন্যদিকে, শারীরিক হয়রানির শিকার হয়েছেন ২৪ শতাংশ নারী ও ৭ শতাংশ পুরুষ।
৩৩৯ জন উত্তরদাতার মধ্যে সাতজন নারী ও দুজন পুরুষ জানিয়েছেন, তারা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।
জরিপে প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার দুর্বলতাও উঠে এসেছে, বিশেষ করে মৌখিক হয়রানির ক্ষেত্রে। নারীদের মৌখিক হয়রানির অভিযোগের ৪৩ শতাংশ ক্ষেত্রে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ৬০ শতাংশ।
যেসব ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেখানে অপরাধীকে সতর্ক করাই ছিল সবচেয়ে সাধারণ পদক্ষেপ।
অনুষ্ঠানটি বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের ‘যৌন হয়রানি মোকাবিলায় নারী সাংবাদিকদের নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ’ উদ্যোগের অধীনে আয়োজিত হয়। এতে সহায়তা দেয় পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তর এবং অংশীদার ছিল উইমেন জার্নালিস্টস নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদপত্র মালিক সমিতির সভাপতি ও মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আল মামুন, মিডিয়া ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার রাশেদুল হাসান এবং উইমেন জার্নালিস্টস নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের সমন্বয়কারী আঙ্গুর নাহার মন্টি।
আমার বার্তা/এমই

