
দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর চড়াই-উতরাই পেরিয়ে শুরু হওয়া এই নির্বাচনই বাংলাদেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্রের এক নতুন অধ্যায় সূচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন মির্জা ফখরুল। পরে কেন্দ্রের বাইরে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ প্রত্যাশার কথা জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের যে যাত্রা আজ শুরু হলো, আমরা আশা করি আগামী দিনে এই পথ মসৃণ হবে। মানুষের জীবন, রাজনীতি ও অর্থনীতি সুন্দরের দিকে এগিয়ে যাবে এটাই আমাদের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে অনেক বাধা-বিপত্তি, রক্তপাত আর আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আজকের এই দিনটির শুভসূচনা হয়েছে। এই দিনটির জন্য আমাদের অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ আন্দোলন শেষে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, কিন্তু তিনি যে ত্যাগ স্বীকার করে গেছেন তা ভোলা সম্ভব নয়। এছাড়া, গত কয়েক বছরে লাখ লাখ মানুষ নির্যাতিত হয়েছে, গুম ও খুনের শিকার হয়েছে।
জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, গত ২৪শে জুলাই ছাত্র-জনতা, কৃষক ও শ্রমিকের যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, সেখানে প্রায় ২ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এত আত্মত্যাগের পর আমরা আশা করছি এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে।
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ফখরুল বলেন, আশা করি ভোট গ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হবে। এই নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় শুরু করবে— দেশবাসীর কাছে আজ এটাই আমাদের বড় প্রত্যাশা।
এদিকে, সকাল থেকেই ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মির্জা ফখরুল ভোট দেওয়ার সময় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়।
আমার বার্তা /জেএইচ

