
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে বিদ্বেষে ফুঁসে উঠেছে ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো। তারই প্রেক্ষিতে আসন্ন আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সে চুক্তিবদ্ধ মুস্তাফিজুর রহমানকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানায় তারা। হুমকি-ধামকি দিয়ে শেষ পর্যন্ত তারা সফল। চাপের মুখে বিসিসিআইয়ের কঠোর নির্দেশে তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা বাদ দিয়েছে বাংলাদেশি বাঁহাতি পেসারকে। মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার দাবিতে সোচ্চার কণ্ঠ প্রকাশ করা ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা ও ধর্মীয় গুরুরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বোর্ডকে ধন্যবাদ দিয়েছেন।
আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিজেপির নেতা সঙ্গীত সোম এই সিদ্ধান্তকে ‘ভারতের হিন্দুদের জয়’ আখ্যা দিয়ে বললেন, ‘ভারতের ১০০ কোটি সনাতনির কথা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে বিসিসিআইকে ধন্যবাদ। আমরা গতকাল বলেছিলাম, এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কারণ ১০০ কোটি মানুষের আবেগকে হালকা করে নেওয়া যায় না। এটি পুরো ভারতের হিন্দুদের জয়।’
কলকাতার মালিক শাহরুখ খানকে দেশদ্রোহী বলা এই উত্তরপ্রদেশের কট্টরপন্থি নেতা আরও বললেন, ‘শাহরুখ খান বুঝতে পেরেছেন, ভারতের সনাতনির বিরুদ্ধে যাওয়া তার উচিত হবে না। তিনি আরও বুঝেছেন, এই সনাতনিরা তাকে শাহরুখ খান বানিয়েছে।’
উত্তর প্রদেশ মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা নরেন্দ্র কাশ্যপ বললেন, ‘এই জাতির আবেগ বুঝেছে বিসিসিআই এবং বাংলাদেশি খেলোয়াড়কে বাদ দিয়েছে, এজন্য বিসিসিআইকে ধন্যবাদ। বাংলাদেশে হিন্দুরা যেভাবে নির্যাতিত হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদি ও সরকার এর বিরোধিতা করেছেন।’
মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার দাবিতে সরব ছিলেন আধ্যাত্মিক গুরু দেবকীনন্দন ঠাকুর। এএনআই তার উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছে, ‘এই সিদ্ধান্তের জন্য বিসিসিআইকে ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশে যেভাবে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন চলছে, তাতে করে সেই দেশের একজন খেলোয়াড় আইপিএলে খেলবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না।’ শাহরুখকে ‘হৃদয়হীন’ ও ‘নির্দয়’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘মিস্টার কেকেআর (শাহরুখ খান) এখনো কোনো বিবৃতি দেননি। এটা খুবই বেদনাদায়ক যে মিস্টার কেকেআর হিন্দুদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন না।’
আমার বার্তা/এমই

