
বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে নামবে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও পর্তুগালের মতো পরাশক্তিরা। কিন্তু কিছু দলের স্বপ্ন তাদের ধারেকাছেও নেই। কেউ কেউ নকআউটে উঠলেই আনন্দের আতিশয্যে মেতে উঠবে। তবে এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া ৯টি দলের স্বপ্ন সম্ভবত আরও ছোট। প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে জয়ের স্বাদ পেতে চাইবে তারা।
এবারের বিশ্বকাপে দীর্ঘ বিরতির পর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে কয়েকটি দল, এছাড়া কিছু দলের জন্য এটাই হতে যাচ্ছে প্রথম বিশ্বকাপ। এই যেমন হাইতি, ইরাক ও নিউজিল্যান্ড লম্বা সময় পর বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে। অভিষেক হচ্ছে উজবেকিস্তান, কুরাসাও, জর্ডান ও কেপ ভার্দের মতো দলগুলোর। এদের সবার প্রধান লক্ষ্য থাকবে অন্তত একটি ম্যাচ জেতা।
কানাডা
এবারের আসরের অন্যতম আয়োজক কানাডা। ১৯৮৬ সালে তারা প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিল। তারপর ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে তারা ফেরে ২০২২ সালে।
কাতারে গত বিশ্বকাপে কানাডা প্রথম গোলের দেখা পায়। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দুই মিনিটের ভেথরে জাল কাঁপান আলফোন্সো ডেভিস। বিশ্বকাপে চার ম্যাচের গোলখরা কাটায় তারা। তবে দুই আসরে গ্রুপ পর্বের ছয় ম্যাচ খেলে গ্রেট হোয়াইট নর্থ সবগুলোতেই হেরেছে।
কানাডা তৃতীয়বার সুযোগ পাচ্ছে আসন্ন বিশ্বকাপে। জেসে মার্শের দল বি গ্রুপে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, কাতার ও সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে তারা। তিন ম্যাচের সবগুলো হবে তাদের ঘরের মাঠে। তাই দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে তারা দর্শক-সমর্থকদের পাবে। তাদের উৎসাহে বিশ্বকাপে প্রথম তিন পয়েন্টও আদায় করতে পারে তারা।
হাইতি
হাইতি যখন প্রথমবার ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে খেলতে নেমেছিল, মার্শ তখন শিশু। লেস গ্রেনাডিয়ার্সে বিশ্বকাপে অভিষেক হয়েছিল ১৯৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানিতে। ইতালি (৩-১), পোল্যান্ড (৭-০) ও আর্জেন্টিনার (৪-১) কাছে বিধ্বস্ত হয়ে চার নম্বর গ্রুপের শেষ দল ছিল তারা।
অর্ধশত বছরের বেশি সময় পর হাইতি আবার ফিরেছে। কনকাকাফ বাছাইয়ে দারুণ সফলতা দেখিয়ে সেবাস্তিয়েন মিগনের দল এবার পা রাখবে আমেরিকায়। ফুটবল পাগল ক্যারিবিয়ানরা এবার দলের জয়ের উন্মাদনায় ভাসতে চায়। সি গ্রুপে তারতা খেলবে ব্রাজিল, মরক্কো ও স্কটল্যান্ডের সঙ্গে।
ইরাক
ইরাকের বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছে একবারই। লায়ন্স অব মেসোপটেমিয়ারা হৃদয় ভাঙার যন্ত্রণা নিয়ে ১৯৮৬ সালের সেই আসর শেষ করেছিল। তিন ম্যাচেই তারা পরাজিত হয়েছে মাত্র এক গোলের ব্যবধানে। প্যারাগুয়ে ও মেক্সিকোর কাছে ১-০ এবং বেলজিয়ামের কাছে ২-১ গোলে হার দেখেছিল তারা। আহমেদ রাধির গোলটি এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে তাদের একমাত্র গোল।
৪০ বছর পেরিয়ে গেছে, ইরাক ইতিহাস গড়ে আবার বিশ্বকাপে। বলিভিয়ার বিপক্ষে ফিফা প্লে অফ টুর্নামেন্ট ফাইনাল জিতে ফের বিশ্বমঞ্চে। আই গ্রুপে তাদের সঙ্গী ফ্রান্স, নরওয়ে ও সেনেগাল। তিন প্রতিপক্ষই কঠিন। কিন্তু ৮৬ -এর দুঃখ ভোলার সুযোগের সদ্ব্যবহার নিশ্চিতভাবে নিতে চাইবে তাদের নতুন প্রজন্ম।
নিউজিল্যান্ড
১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেছে নিউজিল্যান্ড। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে একমাত্র অপরাজিত দল হিসেবে বিদায় নিয়েছিল তারা। ইতালির সঙ্গে ১-১ গোলের ড্র, প্যারাগুয়ের সঙ্গে গোলশূন্য এবং স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেও নকআউটে ওঠা হয়নি। তবে ১৯৮২ সালে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপের চেয়ে উন্নতির ছাপ রেখেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার জয় আসতেই পারে।
ওশেনিয়া ফুটবল কনফেডারেশন থেকে সরাসরি বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছিল নিউজিল্যান্ড। ২০১০ সালের অভিজ্ঞতা তাদের মনে এই বিশ্বাস জুগিয়েছে যে, এই দল প্রথম জয়ের দেখা পাওয়ার সামর্থ্য রাখে। জি গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম, মিশর ও ইরান।
কাতার
২০২২ সালে আয়োজক হিসেবে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলেছিল কাতার। তিন ম্যাচের সবগুলোই হেরে যায় তারা। কিন্তু ইকুয়েডর, নেদারল্যান্ডস ও সেনেগালের বিপক্ষে আশা জাগানিয়া পারফর্ম করেছিল মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। সেই মোমেন্টাম ধরে রেখে প্রথমবার নিজেদের যোগ্যতায় বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছে কাতার। জুলেন লোপেতেগুইয়ের মতো অভিজ্ঞ কোচের অধীনে সুইজারল্যান্ড, কানাডা ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনার সঙ্গে তারা একই গ্রুপে লড়বে। তিন ম্যাচের মধ্যে কানাডার বিপক্ষে জয়ের প্রত্যাশা করতেই পারে কাতার, কারণ ভ্যাঙ্কুভারের প্রবাসী ভক্ত-সমর্থকদের পাশে নিয়ে হোম ম্যাচের স্বাদ পাবে তারা।
অভিষেকেই জয়ের স্বপ্ন
বিশ্বকাপ এবার স্বাগত জানাবে চার নবাগতকে। আফ্রিকার চমক হিসেবে কেপ ভার্দে এবার অংশ নিচ্ছে। বাছাইপর্বে কামেরুনকে টপকে গ্রুপের শীর্ষে ছিল তারা। এইচ গ্রুপে সৌদি আরব, স্পেন ও উরুগুয়ের সঙ্গে লড়বে এই দল।
জনসংখ্যা ও আয়তনে সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে খেলবে কুরাসাও। চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি, আইভরি কোস্ট ও ইকুয়েডরের বিপক্ষে গ্রুপ ম্যাচ খেলবে তারা। চমক দেখানোর মানসিকতা নিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেবে দলটি।
২০১৪ সালে আন্তমহাদেশীয় প্লে অফে উরুগুয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন ভেঙেছিল জর্ডানের। অবশেষে তারা প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে খেলতে যাচ্ছে। আলজেরিয়া, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার সঙ্গে একই গ্রুপে পড়েছে এশিয়ান বাছাইপর্ব উতরে আসা দলটি।
বিশ্বকাপের আরেক নবাগত দল উজবেকিস্তান। মধ্য এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে তারা। হোয়াইট উলভরা কে গ্রুপে কলম্বিয়া, ডিআর কঙ্গো ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের সঙ্গে লড়বে। প্রথমবার বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়ে ইতিহাস গড়ার মুহূর্ত স্মরণীয় করতে জয়ের অপেক্ষায় তারা।

