ই-পেপার বুধবার, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২

পলিথিন-প্লাস্টিক বন্ধে বিকল্প ব্যবহার বাড়াতে হবে: রিজওয়ানা হাসান

নিজস্ব প্রতিবেদক:
১৯ জানুয়ারি ২০২৫, ১৬:১৫

পলিথিন-প্লাস্টিক সস্তা নয়, বরং পলিথিন-প্লাস্টিক জনজীবনকে হুমকির মুখে ফেলছে বিধায় বিকল্প হিসেবে চটের ব্যাগ, কাপড়ের ব্যাগ ইত্যাদির ব্যবহার বাড়াতে হবে বলে মনে করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

রোববার (১৯ জানুয়ারি) নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউটে পলিথিন বিরোধী এবং পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় পরিবেশ উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ২০০২ সালে পলিথিন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, কিন্তু ২০২৫ সালে এসেও তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। যদি জনগণ তাদের আচরণ পরিবর্তন না করে, তবে সরকার একা এই যুদ্ধ জিততে পারবে না। পলিথিন-প্লাস্টিকের ব্যবহারের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের খাবার এবং পানিতে প্রবেশ করে, যা ক্যান্সারসহ গুরুতর রোগ সৃষ্টি করছে। প্লাস্টিকের এই মাইক্রোপার্টিকেলগুলো শরীরে বিষক্রিয়া তৈরি করছে, যা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে। একজন মা কিংবা বাবা হিসেবে এ ধরনের বিষাক্ত অভ্যাস বন্ধ করা জরুরি।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, পলিথিনের বিকল্প সবসময়ই ছিল, কিন্তু সেগুলো ব্যবহার করতে আমাদের অভ্যাসগত অনীহা রয়েছে। আপনার দাদা বা বাবা বাজারে গেলে চটের ব্যাগ নিয়ে যেতেন। কিন্তু এখন গাজরের জন্য এক ব্যাগ, মরিচের জন্য আরেক ব্যাগ—এভাবেই পলিথিনের ওপর নির্ভরতা বেড়ে গেছে। এটা শুধু আমাদের পরিবেশ নয়, আমাদের সংস্কৃতিকেও দূষিত করছে। পলিথিনের বিকল্প হিসেবে চট, পাট, কাপড় এবং কাগজের ব্যাগ ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।

পলিথিন উৎপাদন বন্ধে কারখানাগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, পলিথিন কারখানা বন্ধ করা হবে। পলিথিন কারখানার শ্রমিকেরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করে ক্যান্সারসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কারখানা মালিকদেরই শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পরিবেশ ধ্বংসকারী একটি পণ্যের জন্য জনগণ বা সরকার কেন দায় নেবে?

রুয়ান্ডা এবং তানজানিয়ার মতো দেশগুলোর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এসব দেশে পলিথিন শপিং ব্যাগ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি তানজানিয়াতে পলিথিন ব্যাগ বহন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তিনি বলেন, রুয়ান্ডার শাসকেরা বলেছেন, গৃহযুদ্ধ আমার যতটা ক্ষতি করেনি, পলিথিন তার চেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে। আমাদেরও এমন কঠোর নিয়ম তৈরি করতে হবে।

ঢাকার সুপারশপগুলোতে পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে এরইমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে কাঁচাবাজারসহ অন্যান্য জায়গায় এর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে আরো কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমাদের নেওয়া উদ্যোগের ফলে ঢাকার সুপারশপগুলোতে পলিথিনের ব্যবহার একেবারেই কমে গেছে। চট্টগ্রামেও সুপারশপগুলোতে পলিথিন বন্ধে উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন। আপনারা পলিথিন ব্যাগ গ্রহণ করবেন না। দোকানে গেলে নিজস্ব কাপড় বা চটের ব্যাগ নিয়ে যান। আমাদের অভ্যাস পরিবর্তনই পারে পরিবেশকে সুরক্ষিত করতে।

শুধু পলিথিন নয়, শব্দ দূষণ এবং পাহাড় কাটার বিষয়েও তিনি কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, পাহাড় কাটা বন্ধে মালিকদের তালিকা তৈরি করে তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। এটি বন্ধ করতে জনগণ ও সরকারি কর্মকর্তাদের একযোগে কাজ করতে হবে। শব্দ দূষণ কমাতে হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ করতে আইন প্রণয়ন এবং এর বাস্তবায়নেও তিনি গুরুত্ব দেন তিনি।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জোর দিয়ে বলেন, প্রত্যেককে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব নিতে হবে। পলিথিন ব্যবহার বন্ধের পাশাপাশি শব্দ দূষণ ও পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। আপনার আচরণই এই পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি। পলিথিনের মতো ক্ষতিকর পণ্যের ব্যবহার বন্ধে প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব রয়েছে। তিনি বলেন, আপনার ব্যবহার বন্ধ করলেই পলিথিন বন্ধ হবে। এটি শুধু সরকারের নয়, আমাদের সবার লড়াই।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ২০০৫ সালে পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পর এটি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছিল। তবে সঠিক মনিটরিংয়ের অভাবে এবং জনসচেতনতার ঘাটতিতে এটি আবারও ব্যাপকভাবে ফিরে এসেছে। পলিথিন বন্ধে জনসচেতনতা এবং আইন প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিটি কারখানা ও বিপণন কেন্দ্রে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে হবে। প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণাগুলো পরিবেশে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করছে, যা আমাদের নালা-নর্দমায় বাধা সৃষ্টি করে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি করছে। এটি নিয়ন্ত্রণে কঠোরভবে আইনের প্রয়োগ প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রায় ৫০ হাজার ময়লার বিন সরবরাহ করছে। প্রতিটি বাজার ও দোকানে এগুলো স্থাপন করা হবে, যাতে ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা হয়। দোকানদাররা নিয়ম মানতে ব্যর্থ হলে তাদের ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

আমার বার্তা/এমই

শীতে কাঁপছে সারাদেশ, যেসব জেলায় বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ

শীতে কাঁপছে দেশ। দেশের ১৫ অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। চলতি মাসে দুই

দেশে পরপর দুইবার ভূমিকম্প অনুভূত, আফটারশকের আশঙ্কা

অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর দুই দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে সিলেটসহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে। সোমবার (৫ জানুয়ারি)

জানুয়ারিতে ৫ শৈত্যপ্রবাহ, কুয়াশা ও তীব্র শীতের আশঙ্কা

চলতি মাসে চার থেকে পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক

আজ ঢাকার বাতাস ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’, দূষণের শীর্ষে কাবুল

সারা দেশে চলমান মৃদু শৈত্যপ্রবাহে বাতাসের স্বাভাবিক প্রবাহ কমে যাওয়ায় রাজধানী ঢাকায় বায়ুদূষণ আবারও আশঙ্কাজনক
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১৪ বছরের অপেক্ষার অবসান, ঢাকা-করাচি ফ্লাইট ২৯ জানুয়ারি

আলি আসগর লবির ৫৬ কোটি টাকার সম্পদ, বছরে আয় ২ কোটি

সিইএস ২০২৬: নস্টালজিয়া ছাড়িয়ে নতুন পথে মটোরোলা

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে দুবাইফেরত যাত্রীর ব্যাগে মিলল ২১ লাখ টাকার সোনা

ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ঝুঁকির তথ্য নেই: আইসিসি

হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত হলো নতুন এআই ফিচার

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের গুজব, অধিদপ্তরের সতর্কতা

নতুন বছরে শরীরে শক্তি বজায় রাখতে যে ৫ পরিবর্তন আনবেন

ভারতেই খেলতে হবে, আইসিসি এমন কথা বলেনি: বুলবুল

বিস্তারিত জানতে চেয়েছে আইসিসি, আজই জানাবে বিসিবি

জকসুর ৮ কেন্দ্রের ফলাফল প্রকাশ

ইথিওপিয়ায় ট্রাক উল্টে ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত

টিকিটবিহীন প্রায় ২ হাজার যাত্রীর কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা আদায়

সান্তোসে নেইমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

যুক্তরাষ্ট্রে ২০০ কোটি ডলার মূল্যের তেল দেবে ভেনেজুয়েলা

জকসুর ফল প্রকাশ: ভিপি পদে এগিয়ে ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল

ডিসেম্বরে রেমিট্যান্সে শীর্ষে সৌদি আরব, দ্বিতীয় আমিরাত

চট্টগ্রামে খতনা করাতে গিয়ে ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ

মৃদু শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে কুড়িগ্রাম, তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রিতে

সম্প্রসারিত হবে বাংলাদেশ লোক-কারুশিল্প ফাউন্ডেশন জাদুঘর