ই-পেপার সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩

শবে বরাতে করণীয় ও বর্জনীয়

আমার বার্তা অনলাইন
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১০:৩৫

লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান, শবে বরাত, লাইলাতুল বারাআত বা মুক্তি ও সৌভাগ্যেরজনী হিসেবে পরিচিত শাবান মাসের ১৪ তারিখের দিবাগত রাত। এ রাতে আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে ক্ষমা করেন। আল্লাহর কাছে কোনো কিছু চাইলে তিনি দান করেন। এবং মৃতদেরকে ক্ষমা করেন।

হাদিস শরীফে এই রাত সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে—

উম্মুল মু’মিনিন হজরত আয়েশা রা. বলেছেন, একদিন গভীর রাত্রে রসুলুল্লাহ সা. নামাজ পড়ছিলেন। নামাজ পড়ার সময় তিনি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে দীর্ঘ সেজদা করেন। এভাবে দীর্ঘ সেজদা করতে দেখে, হজরত আয়েশা রা. এর ধারণা হয়, রসুলাল্লাহ সা. হয়তো নামাজ পড়তে গিয়ে ইন্তেকাল করেছেন।

হজরত আয়েশা রা. তখন তার সন্দেহ দূর করার জন্যে রসুলুল্লাহ সা. বৃদ্ধাঙ্গুলিটি ধরে নাড়া দেন। তাতে রসুলাল্লাহ সা. আঙুল নাড়িয়ে সাড়া দেন। এরপর রসুলাল্লাহ সা. সেজদা থেকে উঠে নামাজ শেষ করে হজরত আয়েশা রা. কে বললেন, হে আয়েশা! তোমার কি ধারণা, আল্লাহর রসুল তোমার হক নষ্ট করবেন? হজরত আয়েশা রা. তখন উত্তরে বলেন, না, ইয়া রসুলুল্লাহ।

আপনার দীর্ঘক্ষণ সেজদা করা দেখে আমি শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। আমার মনে হয়েছিল, আপনি হয়তো ইন্তেকাল করেছেন? তাই আমি আমার সন্দেহ মেটানোর জন্য আপনার আঙুল নেড়ে, আপনাকে পরীক্ষা করে দেখছিলাম আপনি জীবিত আছেন কি না।

নবীজি তখন আয়েশাকে রা.-কে জিজ্ঞেস করেন, তুমি কি জানো, আজকের রাতটি কী রাত? আয়েশা তখন নবীজিকে বলেন, আল্লাহ ও তার রসুলই আমার অপেক্ষা ভালো জানবেন আজেকের রাতটির তাৎপর্য কী?

তখন রসুলাল্লাহ সা. বললেন, আজকের রাতটি হলো অর্ধ শাবানের রাত। মহান আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে তার বান্দার সব প্রার্থনা মনোযোগ সহকারে শোনেন। যারা ক্ষমাপ্রার্থী তাদের পাপ ক্ষমা করে দেন। আর যারা অনুগ্রহপ্রার্থী তাদের অনুগ্রহ করেন, তাদের বরকত প্রদান করেন। আর যারা বিদ্বেষ পোষণকারী, তাদের ক্ষমা না করে তাদের নিজের অবস্থাতেই ছেড়ে দেন। (শুআবুল ঈমান, বাইহাকী ৩/৩৮২-৩৮৬)

ফজিলতের কারণে মুসলিম বিশ্বে রাতটি বিশেষভাবে উপযাপন করা হয়। অনেকেই মসজিদে গিয়ে ইবাদত করেন, তিলাওয়াত করেন। এই রাতের ইবাদত নিয়ে বেশ কিছু ভুল প্রচলন রয়েছে। তাই এই রাতের ইবাদত সম্পর্কিত করণীয় বজর্ণীয় বিষয়ে তুলে ধরা হলো এখানে—

শবে বরাতের করণীয়

>> ইশা ও ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করা উচিত এই রাতে। এই রাতে আমরা অনেকেই নফল ইবাদতে মগ্ন থাকি। রাত জেগে নফল ইবাদতের ফলে ফজর নামাজ পড়া হয় না। অথচ নফল ইবাদতের থেকে ফরজ ইবাদত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি ইশা ও ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করলে তিনি পুরো রাত নফল ইবাদত করার সওয়াব পান।

>> নফল নামাজ পড়া যেতে পারে। যেহেতু রাতটি বিশেষ ফজিলত পূর্ণ। রাসূল সা. নিজেও এই রাতে নফল নামাজ পড়েছেন, তাই আমরাও রাতটি নফল নামাজের মাধ্যমে কাটাতে পারি।

>> তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া যেতে পারে এই রাতে। নফল ইবাদত হিসেবে তাহাজ্জুদ নামাজ প্রতি রাতেই পড়ার নিয়ম। তবে ইবাদতে অভ্যস্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের জন্য বছরের অন্যান্য রাতগুলো তাহাজ্জুদ পড়া কিছুটা কষ্টকর। তাই তারা এই রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতে পারেন।

>> আল্লাহর কাছে দোয়া করতে পারেন এই রাতে। আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করলে তা কবুলের সম্ভবনা রয়েছে। তাই নিজের ও অন্যের সমস্যা, প্রয়োজন নিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত।

>> তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা। মানুষ হিসেবে আমরা প্রতিনিয়ত গুনাহ করে ফেলি। গুনাহের পর তাৎক্ষণিক তওবা করা নিয়ম। অনেক সময় অবহেলা করে তওবা করা হয় না। এই রাতে তওবা করে গুনাহ থেকে মাফ চাওয়া উচিত। তওবার নামাজ পড়া যেতে পারে অথবা সরাসরি দোয়ার মাধ্যমে তওবা করা যেতে পারে। তবে নামাজের পরে তওবা বেশি কার্যকরী।

>> কোরআন তিলাওয়াত করা যেতে পারে। কোরআন তিলাওয়াত মানুষকে আল্লাহ তায়ালার নিকটবর্তী করে। ফজিলতপূর্ণ এই রাত তিলাওয়াতে কাটানো উত্তম।

শবে বরাতে বর্জনীয়

>> শবে বরাত পুণ্যময় রজনী। এ রাত ইবাদতের মাধ্যমে কাটাতে হবে। হাদিসে বর্ণিত নেই এমন কোনো কাজ করা যাবে না এই রাতে। এবং যেকোনো ধরনের নোংরা ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।

>> শবে বরাতের মত পুণ্যময় রাতে আতশবাজি, পটকা ফোটানো যাবে না।

>> কেউ চাইলে ভালো খাবারের ব্যবস্থা করতে পারে। তবে এই দিনে ভালো খাবার তৈরি করা জরুরি মনে করা যাবে না।

>> ইবাদত বাদ দিয়ে হালুয়া রুটি তৈরি করা অনুচিত। এ রাতে যেমন ইবাদতে সওয়াব রয়েছে ঠিক তেমনই গর্হিত কাজেরও শাস্তি রয়েছে।

>> এ রাতে বাড়িঘর, মসজিদ ও ধর্মীয় স্থাপনা আলোকসজ্জা থেকে বিরত থাকা উচিত। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা অপচয় কোরো না, নিশ্চয়ই অপচয়কারী শয়তানের ভাই।’ (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত : ২৭)

>> পুরো রাত নফল ইবাদতে কাটিয়ে ফজর নামাজের মতো ফরজ ইবাদত কাজা করা যাবে না।

হজে গিয়েএ পর্যন্ত ৪ বাংলাদেশির মৃত্যু

পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে সৌদি আরবে এ পর্যন্ত চারজন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। ধর্ম

হুদায়বিয়ার সন্ধি থেকে মুসলিমদের জন্য ৪ শিক্ষা

মদিনার মুসলিম সমাজ এবং মক্কার কুরাইশদের মধ্যে হুদায়বিয়া নামক স্থানে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

সৌদি পৌঁছেছেন ৩২ হাজার ৫৩২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী

এখন পর্যন্ত ৮১ হজ ফ্লাইটে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৩২ হাজার ৫৩২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী। এরমধ্যে

বিপদ থেকে সুরক্ষার দোয়া ও আমল

মানুষের জীবন সবসময়ই অনিশ্চয়তার মধ্যে আবর্তিত। এক মুহূর্তে সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকা মানুষ পরের মুহূর্তেই
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমরা আন্দোলন করেছি, তারপর স্বৈরাচার বিতাড়িত হয়েছে: তারেক রহমান

মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়াতে পারে বাংলাদেশ: আইএমএফ

বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব আরও গভীর করতে চায় সুইজারল্যান্ড

সিলেটের পর এবার কুড়িগ্রামে বিস্তৃত নাদিরার নারী উন্নয়ন প্রকল্প

শিক্ষা-প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় পাকিস্তান

কৃষক-জেলেদের সুরক্ষায় বজ্রপাত প্রতিরোধে জোর দিচ্ছে সরকার

বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক সব সময় বন্ধুত্বপূর্ণ: স্পিকার

দুই বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ডের বিষয় উল্লেখ করে সুষ্ঠু বিচারের আশা

পুলিশ সদর দপ্তর পরিদর্শনে ‘এনডিসি কোর্স’র প্রশিক্ষণার্থী কর্মকর্তারা

চুরির ঘটনায় সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের অতিরিক্ত পরিচালক বরখাস্ত

মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করব: প্রধানমন্ত্রী

দিনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার নিয়োগ

শিক্ষার মানোন্নয়নে তুরস্ক-মালয়েশিয়ার সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে: সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল রণক্ষেত্র, আহত ৪

প্রথম টি-টোয়েন্টি: নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রেকর্ড গড়ে জিতল বাংলাদেশ

কোনো ছাড় নয়, মাদক নির্মূলে বড় পদক্ষেপের বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প ভুল সংশোধনীর মাধ্যমে জোরদার হবে: অর্থমন্ত্রী

জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন অপরিহার্য: চিফ হুইপ

গণভোট-জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্তকারীদের প্রশ্রয় না দেয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

এনসিপির নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে হাইকোর্টের নির্দেশ